মন যা চায় সবসময় তা পাওয়া যায় না, প্রণয়ের কথা খুব মনে পড়ছে। কিশোরী বয়সের প্রথম প্রেমকে চেষ্টা করেও ভুলতে পারেনি রাজন্যা। স্বাধীন তার প্রেম নয় কিন্তু তাকে কিছুতেই ঠকাতে পারবে না। সে যে কৃতজ্ঞতা পাশে বেঁধে ফেলেছে রাজন্যাকে। আজ তার জীবনে একটা বিশেষ দিন, তার ফুলশয্যা। নারী জীবনে চরম পূর্ণতা পাবার দিন। কুমারীত্ব খুইয়ে শ্রীমতির তকমা সাঁটার দিন। সমর্পণের সাজ সমাপ্ত। কালো মেয়েটা আজ অপরূপা হয়ে উঠেছে। খোঁপায় জুঁই ফুলের ছড়া, গলায় রজনীগন্ধার মালা, হাতে ফুলের বলয় । দূর সম্পর্কের ননদ জা'রা মিলে তার জন্য বরাদ্দ ঘরের বিছানায় তাকে বসিয়ে দিয়ে খানিকক্ষণ হাসি তামাসা করে যথাসময়ে বিদায় নিল। বিয়ের দিন বৃষ্টি হয়নি এই রক্ষে। তবে শ্রাবণের এই অল্প রাতকেই কেমন গভীর মনে হচ্ছে। বাইরেটা প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। সবাই হয়তো শুয়ে পড়েছে। অনেকটা সময় পার হয়ে গেল স্বাধীন এখনও আসছে না কেন! স্বাধীনের অনুপস্থিতিতে ঘরটার উপর চোখ বোলাতে গিয়ে দেখে অল্পের মধ্যেই ফুল দিয়ে সাজিয়ে দারুণ ফুলেল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তার সাথে রয়েছে বিছানা জুড়ে সুগন্ধি লাল গোলাপের পাপড়ি। এখন কেমন যেন ভয় ভয় করছে। শরীরটা শিরশির করছে। ভীরুতার জন্য সে প্রণয়কে ধরে রাখতে পারেনি। এবার আর ভুল করবে না প্রয়োজনে আমন্ত্রণ জানাবে বরং। এবার নজরুল ভর করলো রাজন্যার কণ্ঠে। মনে জোর এনে গেয়েও ফেললো।
প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই
পরি চাঁপা ফুলের শাড়ি খয়েরী টিপ,
জাগি বাতায়নে জ্বালি আঁখি প্রদীপ,
মালা চন্দন দিয়ে মোর থালা সাজাই....
স্বাধীন ধীর পায়ে এসে পড়েছে। দরজায় খিল তুলেছে। নাহ্ টের পায়নি রাজন্যা। গান শেষ হতেই পিছন দিক থেকে স্বাধীন রাজন্যার কোমর জড়িয়ে ধরতেই রাজন্যা গানের জগতের ঘোর কাটিয়ে বাস্তবে ফেরে। দুটো পুরুষালি হাতের স্পর্শে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পায়। এই পরিস্থিতিতে ঠিক কী বলা বা করা উচিত স্থির করতে না পেরে রাজন্যা কথা দিয়ে পরিস্থিতি হালকা করার জন্য বলে-
- কতক্ষণ এসেছো?
-উঁহু আর কোন কথা নয়, এতদিন অনেক বলেছি, আজ শুধু ভোগের দিন ..
-মানে? আমি কি ভোগের বস্তু নাকি?
-ওহ্ রানি, এ ভোগ মানে ভালোবাসা গো..
-সে আবার কী? জানতাম না তো..
-অনেক বেশি জেনেছো, যেগুলোর সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারোনি।
-কী সব আজেবাজে বকছো? নেশা করেছো নাকি?
-নেশা? হা হা হা...এ নেশা তো আগেই হয়েছে। তোমার নেশা, তোমাকে পাবার নেশা..
-আমার সব গুলিয়ে যাচ্ছে, কিচ্ছু বুঝতে পারছি না ...
-বুঝিয়ে দিচ্ছি দাঁড়াও..
হঠাৎ রাজন্যার বুকের আঁচল এক ঝটকায় টান মেরে ছিঁড়ে ফেললো স্বাধীন। আটকানো সেফ্টিপিনটা ভাগ্যিস শাড়ির আঁচলের সাথেই গেঁথে ছিল নইলে ব্লাউজের মধ্যে লেগে থাকলে কাঁধে ফুঁটে যেতে পারতো। সাঙ্ঘাতিক ক্ষিপ্র মনে হচ্ছে স্বাধীনকে। এ কাকে বিয়ে করলো রাজন্যা! মনটা ভেঙে যাচ্ছে। কেন যে তার সাথে এমন হয় জানে না! হে ঈশ্বর এ কোনো পরিস্থিতিতে এনে ফেললে? বাড়ি থেকে বেরোবার উপায় নেই, শাশুড়িমা কী মনে করবেন। আর কেই বা বিশ্বাস করবে স্বাধীনের এই হীন আচরণের কথা? এমন একটা দিনে স্বাধীনের মুখ থেকে এসমস্ত কথা শুনতে হবে কখনও ভাবেনি। বিয়ের আগে স্বাধীনের চরিত্র নিয়ে কানাকানিতে কান না দিয়ে খুব ভুল করেছে সে। বিয়ের মতো এমন একটা ব্যাপারে বড্ড তাড়াতাড়ি করে ফেলেছে। আজকের রাতটা অত্যাচারিত হতে হবে মনে হচ্ছে। লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সে। আর ভালো লাগছে না, পরিস্থিতির হাতে নিজেকে সঁপে দিল এবার।
ছিঁড়ে নেওয়া আঁচল রাজন্যার গায়ে আবার জড়িয়ে দিল স্বাধীন। ভীষণ অবাক হলো রাজন্যা। কিন্তু কোন কথা বলল না। স্বাধীন বলতে থাকে -
- কি মনে করলে? তোমার উপর অত্যাচার করছি?
রাজন্যা এবারও কোন কথা বলে না। স্বাধীন পুনঃ বলে চলে-
-আমি দেখতে চাইলাম রাগলে আমার রানিকে কেমন লাগে। একটু মজা করলাম।
-এটা মজা?
-আচ্ছা বলো তো, জোর করার হলে আগে করতে পারতাম না?
তাইতো! রাজন্যা ভেবে দেখে স্বাধীন মিথ্যে বলছে না। আগে কখনও অসম্মান জনক কোন আচরণ করেনি তাহলে আজ কেন এমন আচরণ করছে? তাহলে বিয়ে করার প্রয়োজন ছিলো না। সে হয়তো ভুল বুঝেছে স্বাধীনকে। রাজন্যাকে চুপ থাকতে দেখে স্বাধীন-ই বলে-
-অনেক কষ্ট পেয়েছো তুমি। আর না, আমার জন্য তোমায় কোনদিন কষ্ট পেতে দেবো না। প্রচণ্ড ভালোবাসি তোমায়।
-সত্যি?
-সত্যি, সত্যি, সত্যি। তিন সত্যি।
স্বাধীনের খোলা বুকে এবার লুটিয়ে পড়লো রাজন্যা। অত্যন্ত যত্নে আর আদরে আদরে ভালোবাসার চিহ্ন আঁকতে থাকলো স্বাধীন। আলো নিভে গেলো। রাজন্যা হারিয়ে গেল স্বাধীনের ডাকে। ডুবে গেল সেই স্বর্গীয় সুখের আলোলিকায় যেখানে শুধুই সৃষ্টির নেশা। শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বয়ে গেল উত্তপ্ত লাভা, থামতে চায় না সে। পাওয়ার নেশা এবার রাজন্যার অস্থিমজ্জায়।
-এরপর আগামী সপ্তাহে.....
.jpeg)
0 মন্তব্যসমূহ