Header Ads Widget

বিশ্ব বঙ্গীয় সাহিত্য কলা আকাদেমি (Reg No:1900200271/2023)

ঘর বেঁধেছে ঝড়ের পাখি / রঙ্গনা পাল / পর্ব -৪৫



ঘর বেঁধেছে ঝড়ের পাখি / রঙ্গনা পাল / পর্ব -৪৫

            চাকরি ব্রেক করার পর তিন তিনটে মাস রাজন্যা কাটিয়ে ফেললো  গতানুগতিকতা, আধ্যাত্মিকতা আর মানসিক বিকারগ্রস্ততায়। সে নিজের মতো ভেবে নিয়েছিলো ভি.আর.এস. নেবে তাহলে সারাজীবনে কুলিয়ে গুছিয়ে চালিয়ে নিতে পারবে। জীবনের গতি বড় বিচিত্র। তার সাথে ভাবনার তরঙ্গ কখনও পাহাড়ের মতো অচল কখনও সাগরের মতো অতলান্তিক। সুতরাং জমানো ছুটি শেষ হবার পর-ই বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর এক সমস্যায় পড়লো রাজন্যা। বিনা বেতনে দুটো মাস কোনোমতে কাটানোর পর ভাবতে থাকলো কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়। রেণুকা কাজের মেয়ে হলেও এই রাজন্যার সংসারটাকে ভালোবেসে ফেলেছে। রাজর্ষির সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছে। একইসঙ্গে সময়মতো রাজন্যাকে ওষুধ দিয়ে তাকে অনেকটা সুস্থ স্বাভাবিক করে তুলেছে। মানসিক বিকার অনেকখানি কমেছে। এখন চিন্তাভাবনা স্বাভাবিক হয়েছে। হয়তো সেই কারণে রাজন্যা ভাবছে কিভাবে চাকরি না করেও স্বেচ্ছা অবসর নেওয়া যায়। এখন স্বাধীন কদাচিৎ বাড়ি আসে। রাজন্যার এই বেতন বন্ধে সেও কিছুটা চাপে পড়ে যায়।


          কয়েকটা দিনের ব্যবধানে স্বাস্থ্যদপ্তরের এক শুভানুধ্যায়ী পরিতোষ তরফদার পারিবারিক কোন একটা মামলার কাগজপত্র দেখে নেওয়ার জন্য সরোজমিন তদন্তে আসে স্বাধীনের অফিসে। স্বাধীন যথেষ্ট সহযোগিতা করে। সুযোগ বুঝে রাজন্যার সমস্যা তার কাছে উপস্থাপন করে স্বাধীন বলে-

     -কোনভাবে স্বেচ্ছা অবসরে সহযোগিতা পাওয়া যাবে?

      -না, এভাবে স্বেচ্ছা অবসর নেওয়া যায় না।

      -তাহলে উপায়?

      -একটা ব্যবস্থা করা যেতে পারে অবশ্য..

       -কীরকম?

       -আমি চাকরিতে জয়েন করার উপায় বলতে পারি। যদি আপনার স্ত্রী রাজি থাকেন।

         -আচ্ছা আমি কথা বলে দেখি।

         -ওকে, ফোনে জানাবেন, তবে আজ-কালের মধ্যেই। ইতিমধ্যে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে।

         -ধন্যবাদ স্যার। কৃতজ্ঞতা জানবেন।


       স্বাধীনের মুখ থেকে কথাটি শুনে রাজন্যার মনে হলো জেনে হোক বা না জেনে, কৃতজ্ঞতা হোক বা সহযোগিতা, দয়া হোক বা ঋণশোধের প্রয়াস হোক একটা ভালো কাজ সে করেছে। রাজন্যা সিদ্ধান্তে এসেছে  সুযোগ যখন পাচ্ছে তখন প্রয়োজনে আবার চাকরি করবে সে। এই দুনিয়ায় এখনও কিছু ভালো মানুষ আছে বলেই রাজন্যারা লড়াই করার শক্তি পায়। কিম্বা এটাও হতে পারে ঠাকুর একদিকে দুঃখ দিলে অন্যদিকে সেই দুঃখকে হাসিমুখে বরণ করার সহ্যশক্তি দেন এবং কাজ করার উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলেন। পরিতোষবাবুর সহযোগিতায় পুনরায় চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ পেলো রাজন্যা। পার্ক সার্কাস-এর কাছে প্যাভলভ মেন্টাল হসপিটালে জয়েন করার অনুমতি পেলো রাজন্যা। অনেকে একে গোবরা মেন্টাল হসপিটালও বলে। আসলে এটা গোবরা কবরস্থানের উল্টোদিকে অবস্থিত বলে হয়তো এমন নামকরণ। অতিরিক্ত চাপ যাতে না পড়ে, মন দিয়ে যাতে নির্দ্বিধায় কাজ করতে পারে তাই উনি রাজন্যার নাইট ডিউটি পর্যন্ত কনসিডার করিয়ে দিলেন। রাতে ওষুধ খেয়ে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে যাতে কোন সমস্যায় পড়তে না হয় তার জন্য এই নাইট ডিউটি থেকে রাজন্যা অব্যাহতি পেয়েছিলো, পরিতোষবাবুর মতো একজন ভালোমানুষের তৎপরতায়‌। এই প্যাভলভ হসপিটাল রাজন্যাকে আবার বাঁচার অক্সিজেন সরবরাহ করলো। এখানে না এলে অনেক তার কাছে কিছুই অজানা রয়ে যেত।


         প্যাভলভের পরিবেশ, এখানকার পেশেন্ট এবং এখানে কর্মরত সাথিদের নিয়ে রাজন্যার নতুন পথ চলা শুরু হলো। এখানে তিনটে ওয়ার্ড আছে। একটা ওয়ার্ড-এ দুটো ফিমেল ওয়ার্ড একটা মেল ওয়ার্ড, একটা পুরোটাই ফিমেল এবং অন্যটি পুরোটাই মেল ওয়ার্ড। এখানে এসে পরিচয় হলো রূপসা নামের এক পেশেন্ট-এর সাথে। রূপসার মা রূপসাকে দুবছরের রেখে সুইসাইড করে কারণ রূপসার বাবা অন্য আর একটি বিয়ে করে সংসার ছেড়ে চলে যায়। রূপসা মানুষ হয় ওর দিদার কাছে। দিদা পেশায় স্কুল শিক্ষিকা ফলে আদর যত্নেই মানুষ হয়। পরে স্কুল জীবন শেষ করে  কলেজ জীবনে পা দেওয়ার সাথে সাথেই অসৎ-সঙ্গে পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বাড়ি এসে দিদার উপর উৎপাত শুরু করে, জিনিসপত্র ভাঙচুর করতে থাকে। দিনের পর দিন এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ওর দিদা পাড়ার লোকের সহযোগিতায় রূপসাকে প্যাভলভে ভর্তি করিয়ে দেয়।


                  -এরপর আগামী সপ্তাহে.....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ